এনআইবি মহাপরিচালক নিয়োগ জটিলতার দ্রুত অবসান চায় বিএবিজি

২৬ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১৪  

একজন দক্ষ সংগঠক এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ বায়োটেকনোলজিস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান এর বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শনিবার, বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ বায়োটেকনলোজি গ্রাজ্যুয়েটস (বিএবিজি)। দেশের জীবপ্রযুক্তি গবেষণা ও কর্ম পরিধি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে সংবাদ সম্মেলনে এই গুণী জীব বিজ্ঞানীকে অবিলম্বে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছ।

লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব জানান, অনতিবিলম্বে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান যোগদান করতে দেয়া না হলে কর্মবিরতি, মানববন্ধন সহ অন্যান্য কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উম্মে সালমা যোহরা; টেকনোওয়ার্থ এ্যাসোসিয়েটসের জেনারেল ম্যানেজার আ.ন.ম তারিকুল ইসলাম;  ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অজয় রায়; বিইউএইচএস সহযোগী অধ্যাপক মো: মাহমুদুর রহমান; জেনবিট হেলথ সিইও ও বিএবিজি’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: আবদুস সামাদ আজাদ; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই ও একমি ল্যাবরেটরিজের এক্সিকিউটিভ মো: রাজিব শাহরিয়ার এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যালামনাই শেখ আশরাফ সিদ্দিকী।

বক্তারা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক হিসেবে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, দেশে ২৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগ আছে। সেসব বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার একশত (১১০০) স্নাতক বের হচ্ছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দক্ষ জীবপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে তাদেরকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ কোনটাই নেই। এর পেছনে বক্তারা এতদিনের নেতৃত্বের সংকটকে দায়ী করেন। তারা এই প্রথমবারের মত দেশের কেন্দ্রীয় জীবপ্রযুক্তি সংস্থা “ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)” তে মহাপরিচালক হিসেবে বায়োটেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করে আসা, এই বিষয়ে গবেষণায় অভিজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান এর নিয়োগ কে স্বাগত জানান এবং জীবপ্রযুক্তির বিকাশে তার অবদানকে স্মরণ করেন।

তারা বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান বাংলাদেশের জীবপ্রযুক্তি প্রসারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জীবপ্রযুক্তিবিদদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ বায়োটেকনোলজি গ্র‍্যাজুয়েটস (বিএবিজি) এর সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের জীবপ্রযুক্তি নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিতে থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কমিটিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এর বাইরেও তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিষয়ের সিলেবাস প্রণয়ন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবায় করোনা মহামারীর সময় জীবপ্রযুক্তিবিদদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বিসিএস পরীক্ষায় বায়োটেকনোলজিকে অন্তর্ভুক্তকরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান, যা ছিল বায়োটেকনোলজি গ্র্যাজুয়েটদের প্রাণের দাবি। জীবপ্রযুক্তিবিদদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে যে উদ্যোগ তৈরি হয়েছে তার প্রাণ ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে তাকে ছাত্ররা পাশে পেয়েছে চব্বিশের গনঅভ্যুত্থানে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ’খানেক আন্দোলনকারী ছাত্রকে যখন পুলিশ আর সন্ত্রাসীরা হামলার মুখোমুখি করে তখন তিনি ছাত্রদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন নিকটস্থ অরুনাপল্লিতে। ছাত্রদের এবং দেশের পাশে থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে তার নিয়োগকে বাধাগ্রস্থ করছে।